এখন সময় :
,
PopularITLtd.com
মেনু |||

সোনারগাঁওয়ে রিজোর্ট সিটি বালু ভরাট করে মেঘনা নদী দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের জিয়ানগর এলাকায় মেঘনা নদী জায়গা ও সরকারী খাস জমি বালু দিয়ে ভরাট করে নদী দখলের অভিযোগ উঠেছে নদী খেকোদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ৮ বছর আগে এ নদী দখলের অভিযোগে এ জায়গায় বালু ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। পুনরায় গত এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কবির হোসেন ও ব্যবসায়ী শাহজালালের নেতৃত্বে আবারো নদী দখল চলছে। স্থানীয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে আছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেছেন এলাকাবাসী।

 

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জিয়ানগর এলাকায় স্থানীয় জমি ব্যবসায়ী শাহজালাল ২০১০ সালে হাই স্পীড নামের একটি শীপইয়ার্ড কোম্পানিকে ওই এলাকায় প্রায় ১০ একর সম্পত্তি ক্রয় করে দেয়। এসময় ওই কোম্পানির পক্ষে শাহজালাল ওই এলাকার প্রায় তিন একর সরকারী খাস সম্পত্তি দখল করে বালু ভরাট শুরু করে। ওই সময়ে পাশ্ববর্তী মেঘনা নদীতে গাছের খুটি পুতে মেঘনা নদী দখল করে। মেঘনা নদী দখল করার অভিযোগ ওই সময়ে স্থানীয় প্রশাসন কোম্পানির বালু ভরাট করা বন্ধ করে দেয়। হাই স্পীড শীপইয়ার্ড কোম্পানি পরবর্তীতে শাহজালালের মাধ্যমে সোনারগাঁও রিজোর্ট সিটি নামের একটি কোম্পানির কাছে জমি বিক্রি করে দেয়। দীর্ঘ ৮ বছর পর পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কবির হোসেন, আঃ করিম, পুলিশ হেড কোয়াটার্সে দায়িত্বরত পুলিশ সুপার আক্তার হোসেনের ছোট ভাই আফজালহোসেন, জমি ব্যবসায়ী শাহজালালের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একটি দল সিন্ডিকেট সোনারগাঁও রিজোর্ট সিটির পক্ষে পুনরায় বালুর বস্তা ফেলে মেঘনা নদী দখল করে ভরাট করছেন। গ্রামবাসী এতে বাঁধা দেওয়ায় পুলিশ সুপার আক্তার হোসেনের প্রভাব দেখিয়ে তার ছোট ভাই আফজাল হোসেন চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলার হুমকি দিয়ে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

সরেজমিনে জিয়ানগর এলাকায় মেঘনা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধ শতাধিক শ্রমিক নদীর পানিতে বালু বস্তা ফেলে নদীর জায়গা দখল করছে। এছাড়াও ওই স্থানে দুটি ভেকু দিয়ে উপর থেকে বালু নদীর দিকে সরিয়ে নিচ্ছে।

 

ভাটিবন্দর গ্রামের আলী হোসেন, জিয়ানগর গ্রামের মোবারক হোসেন বলেন, কবির মেম্বার, আফজাল যেভাবে নদীর জায়গা দখল করে বালু ভরাট করছে এক সময় আমাদের আর নদীতে নামার জায়গা থাকবে না। নদীর জায়গা ভরাটের বিষয়ে বাঁধা দেওয়ায় চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, নদী দখলের বিষয়ে খবর পেয়ে কবির মেম্বারকে কাজ না করার জন্য বাঁধা দেওয়া হয়েছে। আমি নদী ও খাল দখলের বিষয়ে বরাবরই প্রতিবাদ করেছি। কবির মেম্বার ও শাহজালাল একটি সিন্ডিকেট করে এ বালু ভরাট কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমি স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করেছি।

 

পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অভিযুক্ত কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এ কাজের সাথে জড়িত না। এ কাজ কোম্পানির কাছ থেকে এনে শাহজালাল করাচ্ছেন।

 

অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শাহজালালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নদীর কোন জায়গা ভরাট করা হচ্ছে না। কোম্পানির ক্রয়কৃত জায়গায় কাজ চলছে।

 

সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিএম রুহুল আমিন রিমন বলেন, নদী দখলের বিষয়ে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, কোনভাবেই নদীর জায়গার দখল করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী কমিশার ভূমিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, কোনভাবেই নদীর জায়গা দখল করতে দেওয়া হবে না। কেউ নদীর জায়গা দখল করলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

আমাদের সকাল/সোহেল রানা

Share Button
সম্পাদক: রিনি জাহান
নির্বাহী সম্পাদক : মো. কাইছার নবী কল্লোল
যোগাযোগ : ১/এ, (২য় তলা), পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা-১০০০
ফোন নম্বর : ০১৬২১০৩৫২৮৯, ০১৬৩৪৭৩১৩৪২
Email: amadarshokal24@gmail.com