এখন সময় :
,
PopularITLtd.com
মেনু |||

পেট্রোল পাম্প ধর্মঘটে চরম বিপাকে ব্যবসায়ীরা

আমাদের সকাল প্রতিবেদক : ১৫ দফা দাবিতে দেশের তিন বিভাগে পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা অবরোধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই অচলাবস্থা না কাটলে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

বিভাগ তিনটির মোট ২৬ জেলায় একযোগে কর্মবিরতিতে রয়েছেন মালিক-শ্রমিকরা। ২৬ জেলার পেট্রোল পাম্প থেকে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ডিলাররা ডিপো থেকে জ্বালানি তেল তুলছেন না, ট্যাংকলরির মালিক-শ্রমিকরা তেল পরিবহণ করছেন না।

 

ফলে বিপাকে পড়েছেন যানবাহনের মালিক ও যাত্রীরা। কিছু কিছু স্থানে খুচরা হিসেবে সামান্য তেল বিক্রি হলেও তার দাম দ্বিগুণ বা তারও বেশি। ফলে খুব জরুরি না হলে তেল কিনতে পারছেন না গাড়ির মালিক ও চালকরা। সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন সেই ব্যবসায়ীরা যারা কাঁচা সবজি কিনে শহরে পাঠান তারা।

 

তাদের ১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- জ্বালানি তেল বিক্রিতে কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ কমিশন দেওয়া, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান- বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের জন্য ৫ লাখ টাকার দুর্ঘটনা বীমা, ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধি, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণের নিয়ম বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেওয়ার নিয়ম বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট করা, জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল করা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশ দ্বারের ভূমির জন্য ইজারা নেওয়ার নিয়ম বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেওয়ার নিয়ম বাতিল, আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ৫ বছর অন্তর বাধ্যতামূলকভাবে ক্যালিব্রেশনের নিয়ম বাতিল, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ছাড়া ডিলার বা এজেন্টদের অযথা হয়রানি বন্ধ করা, নতুন কোনো পেট্রোল পাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানী তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু করা, পেট্রোল পাম্পের পাশে যে কোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা এবং বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরি থেকে চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা।

 

এই দাবি না মানা হলে তিন বিভাগে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে না বলেও জানিয়েছেন পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা।

 

উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ১ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিলেন পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান রতন।

 

সে অনুযায়ী তিন বিভাগের সব জেলায় রোববার সকাল থেকে পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়। পাশাপাশি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর শ্রমিকরা তেল উত্তোলন, বিপণন ও সরবরাহ বন্ধ রাখায় ২৬ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়।

 

আমাদের সকাল/প্রিন্স/০২-১২-১৯

সম্পাদক: রিনি জাহান
নির্বাহী সম্পাদক : মো. কাইছার নবী কল্লোল
যোগাযোগ : ১/এ, (২য় তলা), পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা-১০০০
ফোন নম্বর : ০১৬২১০৩৫২৮৯, ০১৬৩৪৭৩১৩৪২
Email: amadarshokal24@gmail.com