এখন সময় :
,
PopularITLtd.com
মেনু |||

দেশের চলচ্চিত্রের দুর্গতি চরমে, নানা সংকটে হুমকির মুখে

আমাদের সকাল ডেস্ক : দেশের চলচ্চিত্রের দুর্গতি চরমে। নানা সংকটে দিনে দিনে এই শিল্প হুমকির মুখে পড়ছে। ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা ছিল ৫৬। ২০১৮ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫-এ। গেল বছরজুড়ে নতুন ছবি নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে দুই শতাধিক ছবি নিবন্ধিত হয়। ওই বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই নিবন্ধিত হয় প্রায় ৩৮টি ছবি। সেই তুলনায় চলতি বছর দুই মাসে মাত্র ২৫টি ছবির নিবন্ধন হয়েছে। আর শুটিং শুরু হয়েছে মাত্র ৩টি ছবির। যেখানে ২০১৮ সালের প্রথম দুই মাসে ১২ টির মতো শুটিং শুরু হয়েছিল।

 

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নিবন্ধন খাতা থেকে জানা গেছে, গত বছরের প্রথম দুই মাসে আমার মা আমার বেহেস্ত, আনন্দ অশ্রু, পোড়ামন ২, সুপার হিরো, চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া, অবতার, মন দেব মন নেব, পবিত্র ভালোবাসাসহ ডজনখানেক ছবির শুটিং শুরু হয়। সেই অনুপাতে এ বছরের দুই মাসে গাঙচিল, রোমিও রংবাজ ও প্রেমচোর নামে মাত্র ৩টি ছবির শুটিং শুরু হয়েছে।

 

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মানুষ আর ছবি দেখতে হলে আসছেন না। প্রযোজকেরাও আর লোকসান গুনতে চাইছেন না। তাই নতুন ছবি নিবন্ধন বা নির্মাণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন প্রযোজকেরা। এ ব্যাপারে প্রযোজক সমিতির সাবেক নেতা খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ছবিগুলোর ফলাফল ভালো না। দর্শক আসছেন না সিনেমা হলে। তাহলে নতুন ছবির কাজ শুরু হবে কীভাবে? লোকসান দিতে দিতে তো প্রযোজকেরও পুঁজি শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

 

ঢাকার চলচ্চিত্র নিয়ে একধরনের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এই প্রযোজক বলেন, ‘সবার আগে সত্যিকার অর্থে সিনেমা হলের আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। সেখানে আধুনিকায়ন দরকার। তা না হলে দর্শকের অভাবে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে যাবে।’

 

সিনেমা হলের অপ্রতুলতা, ভালো চলচ্চিত্র পরিবেশক না থাকার কারণে ঢাকার চলচ্চিত্রের সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে জানান চিত্রনায়ক ফেরদৌস। তিনি বলেন, ‘সিনেমা হলের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। যে হলগুলো আছে, সেগুলোর মধ্যে বেশির ভাগেরই পরিবার নিয়ে বসে সিনেমা দেখার পরিবেশ নেই। এখন সময় এসেছে হলগুলো সংস্কার করার। সেই সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা সহজ করাও প্রয়োজন। নতুন নির্মাতাদের উৎসাহিত করতে হবে।’

 

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষ ভুলে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দিলেন এই নায়ক। বলেন, ‘সরকার সব সময় সাহায্য করতে প্রস্তুত। কিন্তু আমরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ভুলে একসঙ্গে সেই সহযোগিতা নিচ্ছি না। একদল এগিয়ে নিতে চাইলে আরেক দল পিছিয়ে দিচ্ছে। ফলে সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়ে যাচ্ছে।’

 

নতুন ছবির নিবন্ধন, নির্মাণ কমে যাওয়ার ব্যাপারে পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘প্রযোজক তো বিনিয়োগের টাকাই ফেরত পাচ্ছেন না। তাহলে নতুন ছবি তৈরি হবে কীভাবে? ছবি মুক্তির সময় পরিবেশকের ঘর থেকে প্রেক্ষাগৃহ পর্যন্ত পথে পথে প্রযোজকেরা টাকা হারিয়ে যাচ্ছেন।’ এই পরিচালক আরও বলেন, এই মুহূর্তে চলচ্চিত্র পরিবেশনের পদ্ধতি পরিবর্তন না করা হলে এই শিল্পের অবস্থা আরও খারাপ হবে। তিনি বলেন, ছবি মুক্তির সময় বিভিন্ন এজেন্ট, হলের অসৎ কর্মকর্তাদের সরাতে হবে।

 

 

 

আমাদের সকাল/এসআর

Share Button
সম্পাদক: রিনি জাহান
নির্বাহী সম্পাদক : মো. কাইছার নবী কল্লোল
যোগাযোগ : ১/এ, (২য় তলা), পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা-১০০০
ফোন নম্বর : ০১৬২১০৩৫২৮৯, ০১৬৩৪৭৩১৩৪২
Email: amadarshokal24@gmail.com