এখন সময় :
,
PopularITLtd.com
মেনু |||

থানার কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ক্যাশিয়ার দূর্ণীতিবাজ কনস্টেবল এনায়েতের বিরুদ্ধে থানার ওসি ও জেলা পুলিশ সুপারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া থানার মুন্সি মোঃ হোসেনের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা জানান, সোনারগাঁ থানার কনস্টেবল এনায়েতের বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ। জানা গেছে, গত ২০১৭ ইং সালের জুলাই মাসে ওসি মোঃ মোরশেদ আলম পিপিএম অত্র থানায় যোগদান করার কয়েকদিন পরই দূর্নীতিবাজ কনস্টেবল এনায়েত তার বাড়ীতে গোপনে রাখা বিপুল সংখ্যক মাদকসহ থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলো। সোনারগাঁ থানার চৌকষ পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আব্দুল হক শিকদার তাকে বিপুল সংখ্যক মাদকসহ গ্রেফতার করেছিলো। এরপর তাকে থানা থেকে ক্লোজড্ করা হয়েছিলো। দীর্ঘদিন পর মাদকসহ গ্রেফতারকৃত কনস্টেবল এনায়েত অদৃশ্য খুটির জোরে ও মোটা অংকের অর্থ দিয়ে পূণরায় অত্র থানায় নিয়োগ পায় এবং পূণরায় সে বিভিন্ন মাদক স্পট ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদা তুলে থাকে। আর এসবই করছে বর্তমান জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ ও সোনারগাঁ থানা ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে। তার এ ধরনের অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকান্ডে বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তবে কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ীদেরকে মাদক দিয়ে গ্রেফতার করার ভয় দেখায় এই দূর্ণীতিবাজ পুলিশের ক্যাশিয়ার এনায়েত। বিশেষ করে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাঁচপুর এলাকার বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই পুলিশী গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে থাকে সে।

 

এছাড়াও তার বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলায় বলে থানার প্রতিটি কর্মকর্তাও তাকে ভয় পায়। সবাইকে সে অন্যত্র বদলী করারও ভয় দেখায়। দূর্নীতিবাজ কনস্টেবল এনায়েত জেলার বিদায়ী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের কাছের লোক বলে অত্র থানার অরেক দূর্ণীতিবাজ মুন্সি মোঃ হোসেনকে সাথে নিয়ে উভয়ে মিলে থানার কর্তৃত্ব চালায় বলে অভিযোগে জানা গেছে। বেশ কয়েকদিন পূর্বে তাদের অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে তারা থানার এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তার যোগসাজশে মোটা অংকের অর্থ বর্তমান জেলা পুলিশ সুপারের হাতে দিয়ে সে যাত্রায় তাদের অন্যত্র বদলীর আদেশ বাতিল করতে সক্ষম হয়।

 

এদিকে থানার মুন্সি মোঃ হোসেনের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, আসামী চালান, মামলার নকল বিক্রি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, কোর্ট পিটিশন, মামলার খরচসহ অসংখ্য অভিযোগ। তিনি মাথাপিছু পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা উৎকোচ নেন। কেউ যদি টাকা কম দেয় তাহলে সেই গ্রাহকদের বেড়ে যায় হয়রানি। টাকা ছাড়া কোন গ্রাহকদেরই সেবা দেন না তিনি। এ ছাড়া মামলার নথি, কাগজপত্রের নকল সরবরাহসহ সব কিছুতেই তাকে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা। মামলার নকল কপি নিতেও তাকে দিতে হয় ৫শত থেকে এক হাজার টাকা। অনেক গরিব প্রবাসী কষ্ট করে টাকা পয়সা ধার-দেনা করে বিদেশে পাড়ি দেয়ার জন্য পাসপোর্ট করে থাকেন। পরে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য সোনারগাঁ শাখার সোনালী ব্যাংক থেকে পাঁচশত টাকা জমা দেয়ার বিনিময়ে অনলাইনে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার বিশেষ শাখা বরাবর আবেদন করতে হয়। আবেদনটি ওই অফিস থেকে একটি স্বারক নাম্বার দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় সোনারগাঁ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসির) বরাবর। কিন্তু ওসির দায়িত্ব হলো যে কোন এসআইকে দিয়ে তা তদন্ত করা। অথচ এসব দায়িত্ব দেখভাল করেন মুন্সি মোঃ হোসেন নিজেই। তাছাড়া তিনি তার পছন্দ মত দারোগাকে দিয়ে কোন রকম তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে পাঠিয়ে দেন জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ শাখায়। এমনকি ভাল মন্দ যাচাই বাছাই না করে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার নিয়ম থাকলেও তাড়াহুড়ো করে পাঠিয়ে দেন আবেদনটি। কিন্তু মুন্সি মোঃ হোসেন আবেদনকারী থেকে এসপি, থানার ওসি ও মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দফতরের নাম ভাঙ্গিয়ে জোরপূর্বক পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করে দেন। অথচ এ সেবাটি বিনামূল্যে দেয়ার নিয়ম থাকলেও মানুষকে বিপদে ফেলে সোনারগাঁ থানার এই দূর্ণীতিবাজ মুন্সি মোঃ হোসেনসহ কতিপয় অসাধু ও দূনীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা এই উৎকোচ আদায় করছেন।

 

বারদী, পিরোজপুর ও সনমান্দী এলাকার ভূক্তভোগী জুয়েল, বাবু, করিম মিয়া ও শহিদুল ইসলাম জানান, আমরা থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে গেলে থানার নতুন মূন্সি মোঃ হোসেন আমাদের কাছে ছয় হাজার টাকা দাবি করে। পরে অনেক রফদফার পর কারও কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা, আবার কারও কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। শুধু সাধারন গ্রাহক ছাড়াও তিনি সাংবাদিকদের কাছেও পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা চান বিভিন্ন দফতরের ক্লিয়ারেন্সের জন্য। আর যদি কেউ টাকা কম দেয় তাহলে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন মুন্সি মোঃ হোসেন। একই কথা বললেন সম্ভুপুরা ইউনিয়নের এলাহীনগর গ্রামের মানিক, নজরুল, নয়াপুরের আঃ মতিন, কাঁচপুরের আসাদসহ আরও অনেকে। প্রতিদিন বেশ কয়েকটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন করেন স্থানীয় ও দুর-দুরান্ত থেকে আগত ব্যক্তিরা। সেই হিসেবে মূন্সি মোঃ হোসেনের আয় মাসে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এএসআই বলেন, ভাই পুরো থানা চালান জেলার বিদায়ী পুলিশ সুপার আনিছুর রহমানের আত্মীয় পরিচয়দানকারী থানার ক্যাশিয়ার ও দূর্ণীতিবাজ কনস্টেবল এনায়েত এবং মুন্সি মোঃ হোসেন। তাদের পছন্দ মত দারোগাদের দিয়ে তারা বিভিন্ন কাজ করান। আর তাদের এসব কাজে সহায়তা করছেন থানায় কর্মরত আরেক কনস্টেবল রাখাল চন্দ্র, কনস্টেবল লুৎফর রহমান। দীর্ঘ ১০/১২ বছর ধরে অদৃশ হাতের ইশারায় কনস্টেবল রাখাল চন্দ্র অত্র থানায় কর্মরত আছেন। তার সাথেও রয়েছে সোনারগাঁয়ের অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীর সখ্যতা। তাদের কাছ থেকে সে গোপনে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে নিচ্ছে। অপরদিকে কনস্টেবল লুৎফর রহমানও বিভিন্ন মাদকের স্পট ও বিভিন্ন জায়গা থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে আসছে। তাদের দীর্ঘদিনের এহেন কর্মকান্ডে সোনারগাঁবাসী মনক্ষুন্ন বলে জানা গেছে।

 

সম্প্রতি থানার মুন্সি মোঃ হোসেন ও দূর্নীতিবাজ কনস্টেবল এনায়েতসহ কতিপয় কর্মকর্তার অন্যত্র বদলীর আদেশ হলেও তারা তাদের বদলী ঠেকাতে জেলা পুলিশ সুপারের নিকট মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তা বন্ধ করতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। এছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তার মনেও বদলী আতংক বিরাজ করছে।

 

তাই জেলা পুলিশ সুপারের নিকট অধিকাংশ ভূক্তভোগীর দাবী, অচিরেই এই দুই দূর্নীতিবাজকে অত্র থানাা থেকে জরুরীভাবে অপসারন করা হোক।

 

এব্যাপারে সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি, আলোচনা চলছে।

 

 

 

আমাদের সকাল/সোহেল রানা

Share Button
সম্পাদক: রিনি জাহান
নির্বাহী সম্পাদক : মো. কাইছার নবী কল্লোল
যোগাযোগ : ১/এ, (২য় তলা), পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা-১০০০
ফোন নম্বর : ০১৬২১০৩৫২৮৯, ০১৬৩৪৭৩১৩৪২
Email: amadarshokal24@gmail.com