এখন সময় :
,
PopularITLtd.com
মেনু |||

তিউনিশিয়ায় মি টু ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রায় এক দশক আগে আরব বসন্তের সূত্রপাত ঘটনো তিউনিশিয়া এবার কাঁপছে মি টু আন্দোলনে। রাস্তা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন। দেশটির এক সংসদ সদস্যের এক অবিবেচক কর্মকাণ্ডের কারণে সূত্রপাত হয়েছে হ্যাশট্যাগ#এনাজেদা। ইংরেজি ‘মি টু‘র আরবি হচ্ছে ‘এনাজেদা‘।

 

জুহেইর মাখলুফ নামে এক সংসদ সদস্যের ছবি ভাইরাল হয়েছে দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ওই ছবিতে মাখলুফকে একটি বিদ্যালয়ের কাছে নিজের গাড়িতে বসে অশোভনীয় কিছু কাজ করতে দেখা যায়। ওই সময় এক শিক্ষার্থী তার ছবি তোলেন।

 

ওই ছবি একজন থেকে আরেকজনের কাছে ছড়িয়ে যায়। পরে ফেসবুকে ভাইরাল হয় ছবিটি। শেয়ার করা হয় আসওয়াত নিসা (নারী কণ্ঠ) নামে একটি বেসরকারি সংগঠন নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত (ক্লোজড) ফেসবুক গ্রুপ এনজেদা-তে। এ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এনজেদা-র সদস্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে হাজার হাজার আবেদনকারী।

 

বিভিন্ন নারীবাদী ও অধিকার সংগঠন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদের এমন অবিবেচক কর্মকাণ্ডের জন্য। মাখলুফের কর্মকাণ্ডের জন্য তদন্ত দাবি করে বিক্ষোভ করেছে দেশটির নারী সংগঠনগুলো।

 

তবে মাখলুফ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তার বক্তব্য, তিনি একজন ডায়াবেটিক রোগী। অসুস্থ হয়ে পড়ায় গাড়িতে বসে আমি অন্য কাজ করছিলাম।

 

এদিকে গ্রুপটিতে মাখলুফের ছবি শেয়ার হওয়ার পরপরই যৌন নির্যাতনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন অসংখ্য ব্যক্তি। তারা অভিযোগ করেছে, সামরিক বাহিনী, পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যালয়, সংবাদমাধ্যমে কর্মকর্তাদের কাছে ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে নির্যাতিত হয়েছেন। আছে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগও। অভিযোগকারীদের মধ্যে শুধু নারী নয়, পুরুষ রয়েছে।

 

যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য অভিজ্ঞতা প্রকাশের নিরাপদ জায়গা হিসেবে দেখছেন এর নিয়ন্ত্রকেরা। অনেকে নির্যাতিত হলেও সামাজিক পরিবেশ অনুকূল না হওয়ায় অনেকে তা প্রকাশ করেন না। নির্যাতিতদের গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসওয়াত নিসার উদ্যোগে উঠে আসছে না জানা অনেক নির্যাতনের ঘটনা। আশা করা হচ্ছে, এই সামাজিক আন্দোলনে দেশে যৌন নির্যাতন বিরোধী পরিবেশ গড়তে সহায়ক হবে। পরিবর্তন হবে মানুষের মানসিকতা।

 

২০১৭ সালে আরব অঞ্চলের অন্যতম দেশ হিসেবে নারীদের ওপর সহিংসতা রোধে একটি আইন পাস করে। এ আইনে একবার কেউ নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করলে, পরে তা তার সিদ্ধান্ত বদলালেও সরকার মামলা চালিয়ে যাবে। তবে, এ আইন পালনে অনেক বাধা রয়েছে বলে দেশটির নারী আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন।

 

আস/প্রিন্স/০২/১২/১৯

সম্পাদক: রিনি জাহান
নির্বাহী সম্পাদক : মো. কাইছার নবী কল্লোল
যোগাযোগ : ১/এ, (২য় তলা), পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা-১০০০
ফোন নম্বর : ০১৬২১০৩৫২৮৯, ০১৬৩৪৭৩১৩৪২
Email: amadarshokal24@gmail.com