এখন সময় :
,
PopularITLtd.com
মেনু |||

অবশেষে টেকনাফে আমদানি জট

আমাদের সকাল ডেস্ক : আভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় দীর্ঘ ২০ দিন বন্ধ থাকার পর মিয়ানমার থেকে অবশেষে আসছে গবাদি পশু। বুধবার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে তিনটি ট্রলারে এসেছে ২৭৯টি পশু। তার মধ্যে গরু ছিল ১০২টি ও মহিষ ১৭৭।

 

এছাড়া মঙ্গলবারও চারটি ট্রলারে করিডোরে এসেছে ৩৮২টি পশু। দুইদিনে আমদানি হয়েছে ৬৬১ পশু। রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে আমদানি শুরু হলেও স্বাভাবিক থাকবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দিহান ব্যবসায়ীরা।

 

করিডোর ব্যবসায়ীদের মতে, গত ৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবসে রাখাইনে চারটি পুলিশ পোস্টে হামলার ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্য নিহত হন। দাবি করা হয়, বৌদ্ধ বিদ্রোহীরা এই হামলা চালিয়েছে। এরপর থেকে সেনাবাহিনী নতুন করে অভিযান শুরু করে। এতে প্রাণভয়ে বৌদ্ধ ও হিন্দু পরিবারগুলো বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে পালিয়ে আসছে। এসব কারণে আভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় প্রায় ২০ দিন ধরে মিয়ানমার থেকে সব ধরনের গবাদি পশু আমদানি বন্ধ ছিল। এতে স্থানীয় বাজারে মাংসের সঙ্কট ও দাম বৃদ্ধি পায়। ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে চলে যায় দাম।

 

শুল্ক বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৯১টি গরু, ৪৪০টি মহিষ আমদানি করে ১৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। এর পর থেকে করিডোরে কোনো ধরনের গবাদিপশু আসেনি। ফলে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে পশু আমদানির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর গত মঙ্গলবার থেকে আবার আমদানি শুরু হয়েছে। দু’দিনে মিয়ানমার থেকে ৬৬১টি পশু আমদানি হয়েছে।

 

টেকনাফ উপজেলা পশু আমদানিকারক সমিতির সভাপতি ও প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন, মিয়ানমারে নতুন করে সমস্যার কারণে সেদেশের ব্যবসায়ীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। ফলে দীর্ঘদিন পশু আসা বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় ফের পশু আমদানি শুরু হয়েছে। তবে আগের মতো ব্যবসা জমবে কিনা এনিয়ে সেদেশের ব্যবসায়ীদের মাঝেও সন্দেহ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে পশু ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মাঝে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

 

আরেক পশু ব্যবসায়ী ইউপি সদস্য মো. শরীফ বলেন, দেশে পশুর চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু আমদানি করা হয়। বেশ কিছুদিন পশু না আসায় ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হয়। অল্প হলেও পশু আসা শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

 

টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক কর্মকর্তা শংকর কুমার দাশ বলেন, প্রতি বছর পশু খাত থেকে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে। সকলের সহযোগিতায় তা সম্ভব হচ্ছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে জানুয়ারির শেষের দিকে গবাদি পশু আসা বন্ধ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার থেকে আবার পশু আসা শুরু হয়েছে। এটি স্বাভাবিক থাকলে আগের মতো রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

 

উল্লেখ্য, চোরাচালান রোধে ২০০৩ সালে ২৫ মে শাহপরীর দ্বীপে পশুর করিডোর চালু করা হয়। এতে প্রতি গরু-মহিষ থেকে ৫০০ এবং ছাগল থেকে ২০০ টাকা হারে রাজস্ব আদায় করা হয়। বিজিবি ও শুল্ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে সোনালী ব্যাংকে এসব রাজস্ব জমা পড়ে।

 

 

 

আমাদের সকাল/এসআর

Share Button
সম্পাদক: রিনি জাহান
নির্বাহী সম্পাদক : মো. কাইছার নবী কল্লোল
যোগাযোগ : ১/এ, (২য় তলা), পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা-১০০০
ফোন নম্বর : ০১৬২১০৩৫২৮৯, ০১৬৩৪৭৩১৩৪২
Email: amadarshokal24@gmail.com